ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ , ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গাপুরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৌরসভার ৩০৮৫ পরিবার পেল বিনামূল্যে চাল নিয়ামতপুরে সরকারি বরাদ্দের খেজুর বিতরণ রাণীনগরে অবৈধ রিং জাল পুড়ে বিনষ্ট : মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করলেন ইউএনও নিয়ামতপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনটি ইভাটাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা পুঠিয়ায় বাজার মনিটরিং জোরদার নগরীতে মিশুক ও সিএনজি মালিক সমিতির উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মান্দায় বজ্রপাতে কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু, আহত ১ রাজশাহীতে লাইসেন্স ছাড়া বেকারি পরিচালনা! ১০ হাজার টাকা জরিমানা ​রাজশাহীর সীমান্তে ভারতীয় মদ ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট জব্দ রাসিকের ট্যাক্সেশন কর্মকর্তার অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত নগরীতে পৃথক অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার ৩ পাটুরিয়ায় ডুবে যাওয়ার ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার তেলবাহী লরি সংঘর্ষ থামানোর জন্য মানতে হবে তিন দফা শর্ত! ঘোষণা ইরানের স্পিকারের কাছে ইনসাফ চায় বিরোধী দল: জামায়াত আমির ‎নাটোরে কাজ না করেই কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালাল ইরান! বাংলাদেশ, ভারতসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরু যুক্তরাষ্ট্রের নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২৩ নোয়াখালীতে বিয়ের ফাঁদে ফেলে স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে গণধর্ষণ

‎নাটোরে কাজ না করেই কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন

  • আপলোড সময় : ১২-০৩-২০২৬ ০২:৫৪:০২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০৩-২০২৬ ০২:৫৪:০২ অপরাহ্ন
‎নাটোরে কাজ না করেই কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন ‎নাটোরে কাজ না করেই কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন
‎নাটোরের লালপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের (কাবিটা ও কাবিখা) কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবে প্রকল্প এলাকায় এক কোদাল মাটি না পড়লেও মাত্র দুটি প্রকল্প ছাড়া বাকি সবগুলো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাসুদুর রহমান। কাজ শুরু না হলেও তুলে নেওয়া হয়েছে এসব প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ।

‎লালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার ২৮১ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৫৪টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এছাড়া কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ৯৫.৭২৩৫ মেট্রিক টন চালের বিপরীতে ১৩টি এবং সমপরিমাণ গমের বিপরীতে ১৪টি প্রকল্প নেওয়া হয়। 

‎এসব প্রকল্পের মধ্যে কাবিটা'র ৮টি এবং কাবিখা (গম ও চাল) কর্মসূচির আওতায় রাস্তা সংস্কারে গৃহীত অধিকাংশ প্রকল্পের কোনো কাজ করা হয়নি। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিদের (ইউপি সদস্য) কার্যালয়ে ডেকে স্বাক্ষর নিয়ে অর্থ ও খাদ্যশস্য তুলে নেওয়া হয়েছে। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বিলমাড়িয়া, চংধুপইল, দুয়ারিয়া, আড়বাব, ওয়ালিয়া ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারে ৮টি প্রকল্প নেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩২ লাখ ১২ হাজার ৫৬ টাকা। কাজ শুরু না হলেও এই ৮টি প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব রাস্তার সংস্কার তো দূরের কথা, কোনো কাজের চিহ্নমাত্র নেই।

‎একই চিত্র দেখা গেছে কাবিখা কর্মসূচিতেও। বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের গৃহীত প্রকল্পের মধ্যে ৫ টিতে ৩৮.৭৯৮ মেট্রিক টন গম এবং বাকি ৫ টিতে ৪০.৯৫৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪১ লাখ টাকা। গৃহীত এসব প্রকল্পের বেশিরভাগেরই কোনো কাজ না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। 

‎সরেজমিনে বিভিন্ন প্রকল্প সভাপতিদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, পিআইও অফিসের কাছে তারা একপ্রকার অসহায়। প্রত্যেক ধাপের কাজেই পিআইও অফিসের নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্প থাকে। যেসব প্রকল্পে ইউপি সদস্যদের নামমাত্র সভাপতি করা হয়। প্রকল্প অনুমোদনের পর অফিসে ডেকে তাদের কাছ থেকে চেক, মাস্টাররোলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বরাদ্দের টাকা বা খাদ্যশস্যের কী হয়, তা ইউপি সদস্যদের আর জানানো হয় না।

‎ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলামকে ৭.২০৬ মেট্রিকটন চালের বিপরীতে একটি গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের সভাপতি করা হয়। সরেজমিনে ইউপি সদস্যকে সাথে নিয়ে সেই রাস্তা ঘুরে দেখা যায় সেখানে সংস্কারের কোনো চিহ্ন মাত্রও নেই। 

‎প্রকল্পের কাজ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তালিকা দিতে বলা হয়। তালিকা অনুযায়ী খাদ্যশস্য বরাদ্দ আসে। এরপর একদিন পিআইও অফিসে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলে। আমি স্বাক্ষর করার পর অফিসের কর্মকর্তারা ডিও লেটার ওখানেই রেখে দিয়েছে। আমাকে কিছুই দেয়নি। 

‎ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও অপর একটি প্রকল্প সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই এমন দু-একটি কাজ থাকে। এসব প্রকল্পে ইউপি সদস্যদের নামমাত্র সভাপতি রাখা হয়। টাকা-পয়সা কিছুই আমাদের হাতে দেওয়া হয় না। আমার একটি রাস্তার সংস্কার প্রকল্পের জন্য অফিসে ডেকে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। একই সাথের অন্যান্য প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও রাস্তা সংস্কার  কাজ এখনো শুরুই হয়নি বলে জানান তিনি। 

‎তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান। কাজ না করে বিল উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ম পর্যায়ের কাজ মোটামুটি সন্তোষজনকভাবে শেষ হয়েছে। আমরা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের মান সন্তোষজনক পেয়েছি। প্রকল্প পরিদর্শন করেই তারপর ফাইনাল বিল দেওয়া হয়েছে। 
‎তবে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের জন্য গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে কাজ শেষ করা অন্তত একটি প্রকল্পের নাম জানতে চাইলেও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি পিআইও মাসুদুর রহমান। 

‎এবিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, কাজ না করে বিল উত্তোলনের সুযোগ নাই। আমার কাছে যেগুলো আসছে, কাজ দেখে ওগুলোই বিল দেওয়া হয়েছে। যদি কোথাও অনিয়ম পাওয়া যায় অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২৩

নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২৩